বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হবে ৯৩৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই জাহাজ কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার প্রথম সপ্তাহে কোটি টাকা ছাড়িয়েছে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান-অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এশিয়া কাপের দল ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টা আগামীকাল জুলাই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করবেন মাইলস্টোন ট্রাজেডি: রোগীদের দেখতে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে প্রধান উপদেষ্টা শীঘ্রই নতুনভাবে আসছে passnotebd.com প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ছে ক্যামিকেলের কারণে নদীর পানি ব্যবহারের অয্যেগ্য প্রকাশিত সংবাদের যুবদল নেতা হাজী কাওছারের প্রতিবাদ

বন্ধ হয়ে গেছে যমুনা সার কারখানা

রিপোর্টারের নাম : / ৭ জন দেখেছেন
আপডেট : জুলাই ২৯, ২০২২

জামালপুরের সরিষাবাড়ির তারাকান্দিতে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। তবে গ্যাস সঙ্কটের কারনে গত ২১ জুন বন্ধ হয়ে যায় যমুনা সার কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন। এর মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ফলে সার উৎপাদন ও সরবরাহে অনিশ্চয়তায় পড়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

অল্প গ্যাসে তুলনামূলক বেশি সার উৎপাদন করতে পারে এই কারখানাটি। অন্যদিকে গুনগত মান ভালো হওয়ায় এই সারের চাহিদাও অনেক বেশি।

এই সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলারকে সার সরবরাহ করা হয়। কারখানা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আসন্ন বোরো-আমন মৌসুমে কারখানা কমান্ডিং এ্যারিয়ায় কৃত্রিম সার সঙ্কটের পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছে সার ব্যবসায়ীরা।

সার ব্যবসায়ী ফারুক মাসুম তালুকদার বলেন, ‘এখন যদি কারখানা উৎপাদনে না যায় তাহলে আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকদের সার সরবরাহ করতে পারবে না কর্তৃপক্ষ। এতে করে ডিলাররাসহ কৃষকেরাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’

এছাড়াও কারখানা বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক-কর্মচারী ও পরিবহন চালক।

কারখানা এলাকার ট্রাক চালক ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের রিযিক এই কারখানার উপর নির্ভরশীল। এখন এই কারখানা বন্ধ থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। অনেকে কারখানা ছেড়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। সবাই তো আর কারখানা ছেড়ে চলে যেতে পারছে না। আমরা চাই এই কাখাানাটি দ্রত চালু হোক।’

তারাকান্দি ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মানিক জানান, ‘কারখানাকেন্দ্রিক ৪২০টি ট্রাক রয়েছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে ৮৪০ জন চালক ও চালকের সহযোগী। ট্রাক মালিকরাও রয়েছেন। এছাড়াও এই কারখানার সাথে হাজারো শ্রমিক জড়িত। কারখানা বন্ধ থাকায় এরা সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছে।’

সার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিবছর কোন না কোন অযুহাতে যমুনা সার কারখানা বন্ধ রেখে দেশকে সার আমদানি নির্ভর করে তুলতে চাচ্ছে একটি অসাধু চক্র ।

এসকল বিষয়ে জানতে যমুনা সার কারখানায় গেলে সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেননি কারখানার এমডি ইঞ্জি মোঃ জাকির হোসাইন। কারখানায় প্রবেশে সাংবাদিকদের জন্য জারি করা হয়েছে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা।

তবে মুঠোফোনে যমুনা সার কারখানার মহা-ব্যবস্থাপক (অপারেশন) আব্দুল হাকিম জানান, ‘যমুনা বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সকলেই। গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং এর কারণে বন্ধ রয়েছে উৎপাদন। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করা হলেই আবারো উৎপাদনে ফেরার আশা রয়েছে।’

গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিতাস গ্যাসের বাল্ক কাস্টমার ম্যানেজার খাদেম কায়সার মুঠোফোনে জানান, ‘সর্বত্র গ্যাস সংকটের কারণে দেখা দিয়েছে এমন পরিস্থিতি। সংকট সমাধানের পর সরকার চাইলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে যমুনা সার কারখানাকে। তখন যমুনা সার কারখানা আবার উৎপাদনে যেতে পারে।
১৭০০ মে.টন উৎপাদনক্ষম ইউরিয়া উৎপাদনকারী যমুনা সারকারখানায় প্রতিদিন ৪৫ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয় ।


অন্যান্য সংবাদ