বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হবে ৯৩৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই জাহাজ কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার প্রথম সপ্তাহে কোটি টাকা ছাড়িয়েছে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান-অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এশিয়া কাপের দল ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টা আগামীকাল জুলাই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করবেন মাইলস্টোন ট্রাজেডি: রোগীদের দেখতে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে প্রধান উপদেষ্টা শীঘ্রই নতুনভাবে আসছে passnotebd.com প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ছে ক্যামিকেলের কারণে নদীর পানি ব্যবহারের অয্যেগ্য প্রকাশিত সংবাদের যুবদল নেতা হাজী কাওছারের প্রতিবাদ

নতুন পণ্য উৎপাদন ও রফতানিতে গুরুত্ব দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট / ৫৬ জন দেখেছেন
আপডেট : অক্টোবর ২৬, ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা এখান থেকে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাজার ধরারও একটা সুযোগ পাবেন। তাঁর সরকার সেভাবেই দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগোযোগের একটি সেতুবন্ধন হিসেবেই গড়ে উঠবে।’ মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ অনুরোধ জানান।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সামিটে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন আরও কী কী পণ্য আমরা উৎপাদন করতে পারি এবং রফতানি করতে পারি সেটাও গবেষণা করে বের করতে হবে। সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। কোন কোন দেশে কী কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেটা অনুধাবন করে সেসব পণ্য আমরা বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারি কি না সেটাও আমাদের বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, কাজেই আমাদের যাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে, বিশেষ করে বেসরকারিখাত, আমি তাদেরকে অনুরোধ করব, এই বিষয়টার দিকে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। কারণ আমাদের রফতানি পণ্যের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের চাহিদা থাকে। বাংলাদেশ এমন একটা দেশ আমরা ইচ্ছা করলে পারি, সব কিছুই করতে পারি। এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে, যেটা জাতির পিতা বলে গেছেন।

সরকার প্রধান বলেন, আমি আশা করি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসব খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নব নব দ্বার উন্মোচিত হবে, রফতানি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী আজ যে ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশ যাতে তার থেকে মুক্তি পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেও আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, সেই শুরু থেকেই। কাজেই আমরা বিশ্বে প্রথম ‘শতবর্ষের বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। কারণ বাংলাদেশ একটা ব-দ্বীপ। আমাদের আগামী প্রজন্ম তারা যেন অর্থাৎ প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা যেন একটা সুন্দর জীবন পায়; নিরাপদ জীবন পায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই ব-দ্বীপটাকে উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে জাতির পিতার স্বপ্নের আত্মমর্যাদাশীল, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অনেক পণ্য রয়েছে, আমরা ইতিমধ্যে রফতানি করছি। সাত দিনব্যাপী এই সম্মেলনে আমাদের দেশের নয়টি খাত, যেমন- অবকাঠামো, তথ্য-প্রযুক্তি, চামড়া, ওষুধ, স্বয়ংক্রিয় ক্ষুদ্র প্রকৌশল, কৃষি পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, পাট বস্ত্র ও শিল্পসহ অতিচাহিদা সম্পন্ন ভোগ্য পণ্যসহ ক্ষুদ্র ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। যা আমি মনে করি অত্যন্ত সময় উপযোগী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে সুযোগ সৃষ্টি করছি। কারণ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানটা কিন্তু বিবেচনা করলে যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তাদের একটা সুযোগ থাকবে; এই বাজারগুলো ধরার এবং রফতানি করার। বাংলাদেশ প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের মধ্যে একটা ব্রিজ হিসেবে গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে। যেটা আমাদের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে আরও সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি দেশের উন্নয়নের জন্য। যদিও আমাদের অগ্রগতিটা থেমে গেল। যদি মহামারিটা না হতো করোনা যদি না হতো তাহলে হয়তো আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম। করোনা মহামারি মোকাবিলার জন্য, আমার দেশের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় বা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে থমকে না যায়, সেজন্য আমরা প্রায় এক লাখ সাতাশি হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছি। এমনকি যাতে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে রাখতে পারেন আবার মানুষও যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রেখেছি। এখন আমরা টিকা দেওয়াও শুরু করেছি। কাজেই মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, এটা আমাদের কর্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, শুধু তাৎক্ষণিক কী করা সেটা না। কারণ সরকার গঠনের পর থেকেই আমাদের চেষ্টা ছিল যে আমাদের আশু করণীয় কী, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সেভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি বলেই আজকে আমাদের এ সাফল্য আসতে সক্ষম হয়েছে। আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প-২০২১ প্রণয়ন করেছিলাম ২০১০ থেকে ২০২১। আর এখন আমরা করেছি রূপকল্প-২০৪১ অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০৪১ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে? কীভাবে আমরা উন্নত করব। এরই ভিত্তিতে আমরা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি আমাদের দেশকে।

 

সূত্র : বাসস


অন্যান্য সংবাদ